সমস্যা নেপোটিজমের কারনে হচ্ছে সত্যি। কিন্ত সেটার জন্য যতটা না দায়ী স্টারকিডরা তার থেকে বেশি দায়ী ইন্ডাস্ট্রির চালকেরা।
সালমান খান, আমির খান বাবার জন্য সুপারস্টার হয়নি - বা মহেশ বাবু, আল্লু অর্জুনরাও নয়। কত কত স্টারকিডই তো আসে টেকে কয়জন?
অভিষেক বচ্চন, উদয় চোপড়া, তুষার কাপুররাও তাহলে স্টার হতো।
সমস্যা এখানে যখন মাফিয়ারা পুরো ইন্ডাস্ট্রি তার হাতের মুঠোয় নিতে চায়। সবার গডফাদার হয়ে কাছের লোকেদের সুযোগ দিয়ে যায় আর বাকিদের বঞ্চিত করে।
বলিউডের সমস্যা স্টারকিড নয় বরং এসব ক্যান্সারের মত মাফিয়ারা বা চালকের আসনে থাকা লোকেরা-
ধরুন আল্লু অর্জুনের বাবা আল্লু অরবিন্দের উদাহরণ দেই। এই ব্যক্তি যদি করণ জোহর হতো তাহলে হয়ত জোর করে আল্লু অর্জুনকে সব যায়গায় ঢুকাতেন। উনি এতটাই প্রফেশনাল যে ছেলেকেও পারিশ্রমিক দেন, প্রজেক্ট অফার করেন। তিনি গীতা গবিন্দাম এর জন্য ছোট ছেলে আল্লু শিরিস এর বদলে ইন্ডাস্ট্রির বাহিরের ছেলে বিজয় দেভারাকোন্ডাকে সুযোগ দিয়েছেন। করণ হলে তা হয়ত করতো না।
এত নেপোটিজম ভরা টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতেও রবি তেজা আর ন্যানির মত ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া অভিনেতাদের এক্টিভ রাখা হয়। শ্রী হরির মত অনেককেই মনিকোঠায় রাখা হতো।
এত স্টার টলিউডের প্রায় সবাই স্টারকিড তারপরও কেন বলিউডে এত নেপোটিজম নিয়ে তোলপাড়?? কেন তেলুগুতে নয়।
কারন তেলুগুতে ট্যালেন্টদেরও প্রমোট করে ইন্ডাস্ট্রির মাথারা।
সুকুমার তার দ্বিতীয় সিনেমা "জাগাদাম" আল্লু অর্জুনের সাথে করতে চাইলেও প্রডিউসার দিল রাজু সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন রাম পতিনেনীকে।
এমন অসংখ্য কাহিনী আছে, মহেশ বাবু, আল্লু অর্জুন, প্রভাস এর মত স্টারেরা আদিভি শেষ, বিজয় দেভারকোন্ডা, স্বারবুদের সিনেমা প্রোমোট করে, ফাংশন এ এটেন্ড করেন। তাদের পাশে থাকেন।
এজন্যেই তাদের উপর কেউ প্রশ্ন তোলে না।
কিন্ত বলিউডে কি হচ্ছে--- সব মাথারা যেন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত হচ্ছেন। নতুনদের ও বাহিরে থেকে আসা ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কম। প্লাটফর্ম কম দেওয়া হচ্ছে।
হ্যা স্টারকিডরা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়েই ওঠে। কিন্ত যারা বাহিরের তারা সেই পারফরম্যান্স দেখানোর সুযোগ টাও তো পাচ্ছে কম। এটাই সমস্যা।
অভিযোগ বলিউডের নিউ কামাররা দিচ্ছে তাই আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। বাকি ইন্ডাস্ট্রিতে সেটা হচ্ছেনা সেভাবে বলেই কেউ বলছেনা৷
কারান জোহার তো আজন্ম কালপ্রিট তাকে নিয়ে নতুন করে কি বলবো। আপনি YRF, Dharma দের লাইন আপ দেখুন। ইন্ডাস্ট্রি ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া কজন কয়টা সুযোগ পাচ্ছে আর বাকি স্টারকিড কতটা সুযোগ পাচ্ছে।
সালমান খান এত দয়ালু মানুষ অথচ - সুরজপাঞ্চলি, পুলকিত, অর্জুন কাপুর দের গডফাদার না হয়ে তিনি কি আয়ুশমান, রাজকুমার রাও এর গডফাদার হতে পারতেন না?? তিনি যেভাবে ববি দেওলদের পাশে দাড়ান সেভাবে কি ট্যালেন্টেড বাহিরের থেকে আসা সুযোগ না পাওয়া লোকেদের সুযোগ দিতে পারতেন না! শুধু কাছের লোকেরাই কেন?
আর শুধু সালমান কেন বাকিরাও তো এসব করতে পারতেন তাইনা? সালমানের তো একার দায় না। কিন্ত তবুও এমন মাকাল ফল প্রোমোট করার জন্য চোখে বাধে তাই বলা।
দোষ স্টারকিডদের না- দোষটা তাদের যারা মেতে আছেন কাছের লোকেদের নিয়ে। আর তাতে এত অন্ধ হয়ে গেছে যে বাকিদের অগ্রাহ্য আর হিংসার শিকার হতে হচ্ছে।
২০১৭ সালে একদম বছরের শুরুতেও নাম না জানা এক ছেলে বিজয় দেভারাকোন্ডা প্রভাসের মত স্টারকিড এর বাহুবলী ২ এর মত হিস্টোরিকাল ফিল্মের বাহুবলী ক্যারেক্টরকে টপকে এওয়ার্ড নিতে নিতে আর সেগুলো ঘুছিয়ে ক্লান্ত। সেখানে বলিউডে এওয়ার্ড নিয়ে এত ঝামেলা। বায়াজড হয়ে নির্লজ্জতার শেষ অবস্থায় তারা।
আরেকটা বিষয় হলো সাউথের স্টারকিডরা Humble। তারা স্বীকার করে তারা নেপোটিজম এ এসেছেন কিন্ত তারা বাকিদের অন্য গোত্রের হিসাবে দেখেন না বা অগ্রাহ্য করেনা।
আর বলিউডের কফি উইথ কারান এর মত অনুষ্ঠানে ছোট করা হয়, গ্যাং বেধে নোংরামী চলে। তারা নেপোটিজম সেলেব্রেট করে রীতিমতো বেহায়ার মত।


0 মন্তব্যসমূহ